আষাঢ় কবিতা – বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আষাঢ়’ কবিতায় আষাঢ় মাসের আকাশের অবস্থা সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।
আষাঢ় মাসে প্রকৃতি এক ভিন্ন রূপ ধারণ করে। এ সময় আকাশ কালোমেঘে ঢেকে যায়। নতুন মেঘের আবরণে আচ্ছাদিত হয় নীল আকাশ। তিল পরিমাণ ফাঁকা জায়গা আকাশের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। কালিমাখা মেঘের কারণে চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। সারা দিন অবিরাম বৃষ্টি ঝরে। বলা যায়, আষাঢ় মাসে আকাশ তার চিরপরিচিত রূপ হারিয়ে ফেলে। নীল আকাশ মেঘলা আকাশে পরিণত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে “গুরুদেব”, “কবিগুরু” ও “বিশ্বকবি” অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলনতার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়।
তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন
আষাঢ় কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। বাদলের ধারা ঝরে ঝর-ঝর, আউশের খেত জলে ভর-ভর, কালী-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ্ চাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। ওই ডাকে শোনো ধেনু ঘনঘন, ধবলীরে আনো গোহালে। এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে। দুয়ারে দাঁড়ায়ে ওগো দেখ্ দেখি মাঠে গেছে যারা তারা ফিরিছে কি? রাখাল-বালক কী জানি কোথায় সারাদিন আজি খোয়ালে। এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে। শোনো শোনো ওই পারে যাবে ব'লে কে ডাকিছে বুঝি মাঝিরে। খেয়া-পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে। পূবে হাওয়া বয়, কূলে নেই কেউ, দু কূল বাহিয়া উঠে পড়ে ঢেউ, দরদর বেগে জলে পড়ি জল ছলছল উঠে বাজি রে। খেয়া-পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে গো তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে-- আকাশ আঁধার, বেলা বেশি আর নাহি রে। ঝরঝর ধারে ভিজিবে নিচোল, ঘাটে যেতে পথ হয়েছে পিছল, ঐ বেণুবন দুলে ঘনঘন পথপাশে দেখ্ চাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
আষাঢ় কবিতার সারমর্মঃ
বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য কবি, বিশ্বকপি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) ‘আষাঢ়’ কবিতাটি ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এ কবিতায় কবি আষাঢ় মাসের প্রকৃতির মনোরম বর্ণনা দিয়েছেন। আষাঢ় ভরা বর্ষার মাস। এ সময় আকাশ কালো মেঘে ঢাকা থাকে। মেঘবিহীন আকাশ খুব কম সময়ই থাকে। সারাদিন তখন অবিরাম বৃষ্টি ঝরে। পথঘাট প্লাবিত হয়ে যায় অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পানিতে। তাই এমন দিনে কবি কাউকে ঘরের বাইরে বের হতে মানা করেছেন।

