কদম ফুল নিয়ে কবিতা গুচ্ছ

কদম ফুল নিয়ে কবিতা – কদম একটি বর্ষা কালীন ফুল অর্থাৎ আষাঢ় শ্রাবণ মাসে কদম ফুল দেখা যায়। অসাধারন সুন্দর এই কদম ফুল নিয়ে কবিগন কবিতা লিখবেন না এটা তো হতে পারে না। অনেক কবি কদম ফুল নিয়ে কবিতা লিখে গেছেন ।

 

কদম ফুল নিয়ে কবিতা

 

কদম ফুল!

 

কদম ফুল নিয়ে কবিতা
কদম ফুল নিয়ে কবিতা

 

কদম ফুল!
তোমার নাকি ভীষণ পছন্দ?
এই বর্ষায় খবর পেলুম
দেখা হয়নি , ছোঁয়া হয়নিমিষ্টি গন্ধ পাওনি, তুমি তার‌।
কদম ফুল!
এই বর্ষায় তোমার স্পর্শ অনুভব করেনি
আমার প্রিয়তম
আচ্ছা তোমাকে ছাড়া কি?
বর্ষার মেঘমালা দেখা যায়!
বলোতো তুমি
আচ্ছা তোমাকে ছাড়া কি?
পরিপূর্ণ হয় এই অঝোর শ্রাবণ মেঘের দিন!
জানি তোমার উত্তর না হবে
তাহলে তোমাকে ছাড়া আমার প্রিয়তমর বর্ষা
সেতো থাকবে অসম্পূর্ণ
তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজ
আবহাওয়া অধিদপ্তর এ খবর নিবো
এ সপ্তাহে বৃষ্টি হবে কিনা আদৌ?
যেদিন তোমার মন খারাপ হবে
আমি তোমার জানলায় বৃষ্টিতে ভিজে
দুটি কদম ফুল রেখে যাবো
কথা দিলাম!
আজ তোমার সাথে দেখা হবে
বহুদিন পর,
বাইরে ঝিরিঝিরি বাতাস আর মিষ্টি রোদ্দুর।
কিন্তু মন বলে জানো
আজ এক পশলা বৃষ্টি হবে খুব।
আমি চাই আজ হোক না বৃষ্টি অল্প অল্প
তুমি আমি না হয় ভিজবো অল্প স্বল্প।
হাতে করে নিয়ে আসবো
তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনা কদম ফুল
তুমি আনবে এক ডজন চুড়ি

 

কদম ফুল নিয়ে প্রেমের কবিতা

কদম ফুল নিয়ে কবিতা 2 গুরুকুল লাইভ লিউজ কদম ফুল নিয়ে কবিতা গুচ্ছ

সম্ভব হলে তোমার কথা

কোনো এক অলস দুপুরে ভাববো প্রিয়,

তুমি না হয় আমায় একগুচ্ছ কদম

উপহার হিসেবে দিয়ো।

আমি অভিমান এর সকল পাঠ চুকিয়ে ,

অশ্রুস্নাত চোখে তাকিয়ে দেখবো তোমার হাসি,

তুমি বলবে,

তপ্ত দুপুর ,এখন না হয় আসি।

আমি বলবো, এইতো এলে,

উপহার দিয়ে , কাঁদিয়ে আমায় চলে যাবে বুঝি

কদম হাতে চলো না হয় ,

আজ একটুখানি বৃষ্টিতে ভিজি

তুমি বলবে,চারিদিকে এত রোদ এর খেলা

বৃষ্টি আসবে নাকো ,

আরেকদিন না হয় ভিজবো আমরা ,

আজ তাহলে থাকো।

আমি নাছোড়বান্দা মানুষ, অভিমান করে বলি

বৃষ্টি আজকে আসবেই ,

আরেকটুক্ষণ নাহয় অপেক্ষা করি।

আরে ধুর বোকা,এই না অভিমান ভাঙগলো তোমার

রাগ করে না, এইতো আমি আছি

একগুচ্ছ কদম হয়ে,তোমার পাশাপাশি।
প্রিয় জানি ,তোমার হবে না ফুল।

 

এক গুচ্ছ কদম ফুল কবিতা

কদম ফুল নিয়ে কবিতা 3 গুরুকুল লাইভ লিউজ কদম ফুল নিয়ে কবিতা গুচ্ছ

“বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল”

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ

দান,

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান ।

মেঘের ছায়ায়

অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে

এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম

সোনার ধান ।।

আজ এনে দিলে, হয়তো দিবে না কাল-

রিক্ত হবে যে তোমার ফুলের ডাল।

এ গান আমার শ্রাবণে শ্রাবণে তব

বিস্মৃতিস্রোতের প্লাবনে

ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে তরণী বাহি তব

সম্মান।

 

 

কদম ফুল এর বর্ণনাঃ

দীর্ঘাকৃতি, বহুশাখাবিশিষ্ট বিশাল বৃক্ষ বিশেষ এবং এর ফুল। রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম। কদমের কাণ্ড সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ, কর্কশ। শাখা অজস্র এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা হয় বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। উপপত্রিকা অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী বিধায় পরিণত পাতা অনুপপত্রিক। বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়।

সাধারণত পরিণত পাতা অপেক্ষা কচি অনেকটা বড়। কদমের কচি পাতার রঙ হালকা সবুজ। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলেই মনে হয়। কদম ফুল দেখতে বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। পূর্ণ প্রস্ফুটিত মঞ্জরির রঙ সাদা-হলুদে মেশানো হলেও হলুদ-সাদার আধিক্যে প্রচ্ছন্ন। প্রতিটি ফুল খুবই ছোট, বৃতি সাদা, দল হলুদ, পরাগচক্র সাদা এবং বহির্মুখীন, গর্ভদণ্ড দীর্ঘ। ফল মাংসল, টক এবং বাদুড় ও কাঠবিড়ালীর প্রিয় খাদ্য। ওরাই বীজ ছড়ানোর বাহন

 

কদম ফুল নিয়ে কবিতা গুরুকুল লাইভ লিউজ কদম ফুল নিয়ে কবিতা গুচ্ছ