কাশফুল নিয়ে কবিতা – শরতের বেশ কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল কাশফুল। বর্তমানে শরৎ বলতে তাই অনেকেই শরতের অন্যতম আকর্ষণ কাশফুলকে। বুঝায়। তাই প্রতিবার শরৎ আসলেই কাশফুলকে নিয়ে বেশ মাতামাতি হয়ে উঠে সকল বয়সের মানুষের মাঝে। অসাধারন সুন্দর এই কাশফুল নিয়ে কবিগন কবিতা লিখবেন না এটা তো হতে পারে না। অনেক কবি কাশফুল নিয়ে কবিতা লিখে গেছেন ।
Table of Contents
কাশফুল নিয়ে কবিতা
কাশফুলের কাব্য – কাশফুল নিয়ে কবিতা

ভেবেছিলাম প্রথম যেদিন ফুটবে তোমায় দেখব,
তোমার পুষ্প বনের গাঁথা মনের মত লেখব।
তখন কালো কাজল মেঘ তো ব্যস্ত ছিল ছুটতে,
ভেবেছিলাম আরো ক’দিন যাবে তোমার ফুটতে।
সবে তো এই বর্ষা গেল শরত এলো মাত্র,
এরই মধ্যে শুভ্র কাশে ভরলো তোমার গাত্র।
ক্ষেতের আলে নদীর কূলে পুকুরের ওই পাড়টায়,
হঠাৎ দেখি কাশ ফুটেছে বাঁশ বনের ওই ধারটায়।
আকাশ থাকে মুখ নামিয়ে মাটির দিকে নুয়ে,
দেখি ভোরের বাতাসে কাশ দুলছে মাটি ছুঁয়ে।
কিন্তু কখন ফুটেছে তা কেউ পারে না বলতে,
সবাই শুধু থমকে দাঁড়ায় গাঁয়ের পথে চলতে।
উচ্চ দোলা পাখির মত কাশ বনে এক কন্যে,
তুলছে কাশের ময়ূর চূড়া কালো খোঁপার জন্যে।
শরত রানী যেন কাশের বোরখা খানি খুলে,
কাশ বনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে।
প্রথম কবে ফুটেছে কাশ সেই শুধুরা জানে,
তাইতো সেটা সবার আগে খোঁপায় বেঁধে আনে।
ইচ্ছে করে ডেকে বলি, “ওগো কাশের মেয়ে―
আজকে আমার চোখ জুড়ালো তোমার দেখা পেয়ে
তোমার হাতে বন্দী আমার ভালোবাসার কাশ
তাইতো আমি এই শরতে তোমার কৃতদাস”
ভালোবাসা কাব্য শুনে কাশ ঝরেছে যেই
দেখি আমার শরত রানী কাশবনে আর নেই।
কাশকন্যা – কাশফুল নিয়ে কবিতা

শরৎ সেজেছে কাশফুলে
থরে বিথরে বালুচরে!
সাদা মেঘের শতদল উড়ছে
অপরূপা নীলাম্বরে!
ভাটির দেশে শুভ্র কাশবন
কেড়ে নিয়েছে মন,
নদীর তীর কত যে নিবিড়;
মন হয় উচাটন!
হাওয়ায় দোলে ফুলদল
উড়ে যেতে চায় সুদূরে;
মায়া-মমতায় আটকে আছে
পাশাপাশি অঙ্গাঙ্গীভাবে!
ফুলের মাঝে পাখীরা ওড়ে
প্রজাপতি নেচে চলে বাড়ি।
কাশকন্যাদের হাসির রেখায়
বিলীন হয়ে যায় পরী!
উদাসী আকাশ হাতছানি দেয়
ভাসাবে মেঘের ভেলায়!
সুরের ছোঁয়ায় মন রাঙাবে
মৃদুমন্দ পূবালী বায়!
কাশবনের রাজকন্যা – কাশফুল নিয়ে কবিতা

ধূসর সাদা কাশফুলে
ছেয়ে গেছে বালুচর।
নীলাকাশে উড়ছে
সাদা মেঘ স্তরে স্তর।
ধরাধামে নেমে এলো
এলোকেশী উর্বশী!
কপালেতে নীল টিপ
যেন পূর্ণিমা শশী।
নীল শাড়ি লাল পাড়ে
শ্যামলী তন্বী মনোহারী!
কাশবনের রাজকন্যা
যেন আসমানী পরী!
জোড়া ভ্রুর ডাগর চোখে
নজরকাড়া কাজল।
দুর্বিনীত হাওয়ায় উড়ছে
তার শাড়ির আঁচল।
তার মুখে ভাষা নেই
চোখে শুধু জল!
প্রকৃতির এত আয়োজন
সব হলো যে বিকল।
কবির অন্তর কাঁপে
সেও মূক বিহ্বল!
কথা কাব্য নৈবেদ্য
সব হলো যে বিফল!
কাশফুল এর বর্ণনাঃ
কাশফুল একধরনের বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ।এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum (হিন্দি: काँस kām̥s, ওড়িয়া: କାଶତଣ୍ଡି kāśataṇḍi অসমীয়া: কঁহুৱা, খাগৰী kohuwa, khagori)। এরা উচ্চতায় সাধারনত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদীর তীরে ফুলফোটা শ্বেতশুভ্র কাশবন দেখতে খুবই সুন্দর। এর আদিবাস রোমানিয়া। এটি নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে মাটিতে দ্রুত উপনিবেশ স্থাপন করতে পারে। এর ফলে কোথাও কোথাও ফসলি জমি এবং চারণভূমিগুলিকেও এরা গ্রাস করে আক্রমণাত্মক প্রজাতিতে পরিণত হয়। এই ধরনের সমস্যা পানাম প্রজাতন্ত্রে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
কাশফুল মূলত ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই এদের বেশি জন্মাতে দেখা যায়। এর কারণ হল নদীর তীরে পলিমাটির আস্তর থাকে এবং এই মাটিতে কাশের মূল সহজে সম্প্রসারিত হতে পারে। শরত ঋতুতে সাদা ধবধবে কাশফুল ফোঁটে। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই কাশফুল দেখতে পাওয়া যায়। কাশফুল পালকের মতো নরম এবং রঙ ধবদবে সাদা। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ খুবই ধারালো।
