খাই খাই কবিতা – সুকুমার রায়

খাই খাই কবিতা – এই কবিতাটি লিখেছেন কবি “সুকুমার রায়”।

 

খাই খাই কবিতা - সুকুমার রায়
খাই খাই কবিতা – সুকুমার রায়

 

সুকুমার রায় (৩০ অক্টোবর ১৮৮৭ – ১০ সেপ্টেম্বর ১৯২৩) ছিলেন একজন বাঙালি শিশুসাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে “ননসেন্স ছড়া”র প্রবর্তক। তিনি একাধারে লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সম্পাদক। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সন্তান এবং তার পুত্র খ্যাতিমান ভারতীয় চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তার লেখা কবিতার বই আবোল তাবোল, গল্প হ-য-ব-র-ল, গল্প সংকলন পাগলা দাশু, এবং নাটক চলচ্চিত্তচঞ্চরী বিশ্বসাহিত্যে সর্বযুগের সেরা “ননসেন্স” ধরনের ব্যঙ্গাত্মক শিশুসাহিত্যের অন্যতম বলে মনে করা হয়, কেবল অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড ইত্যাদি কয়েকটি মুষ্টিমেয় ধ্রুপদী সাহিত্যই যাদের সমকক্ষ। মৃত্যুর বহু বছর পরেও তিনি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম শিশুসাহিত্যিকদের একজন।

 

খাই খাই কবিতা – সুকুমার রায়

 

খাই খাই কর কেন, এস বস আহারে –
খাওয়াব আজব খাওয়া, ভোজ কয় যাহারে।
যত কিছু খাওয়া লেখে বাঙালির ভাষাতে,
জড় করে আনি সব,- থাক সেই আশাতে।
ডাল ভাত তরকারি ফলমূল শস্য,
আমিষ ও নিরামিষ, চর্ব্য ও চোষ্য,
রুটি লুচি, ভাজাভুজি, টক ঝাল মিষ্টি,
ময়রা ও পাচকের যত কিছু সৃষ্টি,
আর যাহা খায় লোকে স্বদেশে ও বিদেশে-
খুঁজে পেতে আনি খেতে- নয় বড় সিধে সে!
জল খায়, দুধ খায় যত পানীয়,
জ্যাঠাছেলে বিড়ি খায়, কান ধরে টানিও।

ফল বিনা চিঁড়ে দৈ, ফলাহার হয় তা,
জলযোগে জল খাওয়া শুধু জল নয় তা।
ব্যাঙ খায় ফরাসিরা (খেতে নয় মন্দ),
বার্মার ‘ঙাম্পিতে’ বাপ্‌রে কি গন্ধ!
মান্দ্রাজি ঝাল খেলে জ্বলে যায় কন্ঠ,
জাপানেতে খায় নাকি ফড়িঙের ঘন্ট!
আরশুলা মুখে দিয়ে সুখে খায় চীনারা,
কত কি যে খায় লোকে নাহি তার কিনারা।

দেখে শুনে চেয়ে খাও, যেটা চায় রসনা ;
তা না হলে কলা খাও- চটো কেন? বস না-
সবে হল খাওয়া শুরু শোন শোন আরো খায়-
সুদ খায় মহাজনে, ঘুষ খায় দারোগায়।
বাবু যান হাওয়া খেতে চড়ে জুড়ি-গাড়িতে,
খাসা দেখ ‘খাপ্ খায়’ চাপকানে দাড়িতে।
তেলে জলে মিশ খায় শুনেছ তা কেও কি?
যুদ্ধে যে গুলি খায় গুলিখোর সেও কি?
ডিঙি চড়ে স্রোতে প’ড়ে পাক খায় জেলেরা,
ভয় খেয়ে খাবি খায় পাঠশালে ছেলেরা ;
বেত খেয়ে কাঁদে কেউ, কেউ শুধু গালি খায়,
কেউ খায় থতমত- তাও লিখি তালিকায়।

ভিখারিটা তাড়া খায়, ভিখ্ নাহি পায় রে-
‘দিন আনে দিন খায়’ কত লোকে হায়ে রে।
হোঁচটের চোট খেয়ে খোকা ধরে কান্না,
মা বলেন চুমু খেয়ে, ‘সেরে গেছে, আর না।’
ধমক বকুনি খেয়ে নয় যারা বাধ্য,
কিলচড় লাথি ঘূঁষি হয় তার খাদ্য।
জুতো খায়, গুঁতো খায়, চাবুক যে খায় রে,
তবু যদি নুন খায় সেও গুণ গায় রে।
গরমে বাতাস খাই, শীতে খাই হিম্ সিম্,
পিছলে আছাড় খেয়ে মাথা করে ঝিম্‌ঝিম্ ।
কত যে মোচড় খায় বেহালার কানটা,
কানমলা খেলে তবে খোলে তার গানটা।

টোল খায় ঘটি বাটি, দোল খায় খোকারা,
ঘাবড়িয়ে ঘোল খায় পদে পদে বোকারা।
আকাশেতে কাৎ হ’য়ে গোঁৎ খায় ঘুড়িটা,
পালোয়ান খায় দেখ ডিগবাজি কুড়িটা।
ফুটবলে ঠেলা খাই, ভিড়ে খাই ধাক্কা,
কাশীতে প্রসাদে খেয়ে সাধু হই পাক্কা!
কথা শোন, মাথা খাও , রোদ্দুরে যেয়ো না-
আর যাহা খাও বাপু বিষমটি খেও না।
ফেল্ করে মুখ খেয়ে কেঁদেছিল সেবারে,
আদা- নুন খেয়ে লাগো পাশ কর এবারে।
ভ্যাবাচ্যাকা খেও নাকো, যেয়ো নাকো ভড়কে,
খাওয়াদাওয়া শেষ হলে বসে খাও খড়্‌কে ।
এত খেয়ে তবু যদি নাহি ওঠে মনটা-
খাও তবে কচু পোড়া, খাও তবে ঘন্টা।

 

সুকুমার রায় w গুরুকুল লাইভ লিউজ খাই খাই কবিতা - সুকুমার রায়

 

খাই খাই কবিতা সারাংশ

এই কবিতায় কবি একজন আহার রসিককে মহাভোজে আপ্যায়ন করেছে। বাঙালি খেতে ভালোবাসে। সেই খাওয়ার তালিকা যেমন ডাল ভাত-তরকারি-ফল-মূল-শষ্যআমিষ-নিরামিষ রুটি-লুচি ভাজা-ভুজিটকঝাল মিষ্টি যা কিছু ময়রা ও পাচকরা সৃষ্টি করেছে। সেই সবই পরিবেশন করতে চান আহার-রসিককে। সেই সঙ্গে স্বদেশী-বিদেশী রান্নাও যেমন ফরাসিদের রান্না করা ব্যাঙ‘, বার্মার ঙাম্পি’, জাপানের ফড়িঙের ঘণ্টা’, চিনাদের আরশোলা’ রান্না প্রভৃতি আজব খাওয়া পরিবেশনে। এসব ভালো ভালো যদি মুখে না রোচে তবে শুধু কলা খেয়ে থাকতে হবে আহার-রসিককে।

সুকুমার রায় গুরুকুল লাইভ লিউজ খাই খাই কবিতা - সুকুমার রায়

খাই খাই কবিতা আবৃত্তিঃ