জন্মদিন নিয়ে কবিতা – জন্মদিনের কবিতা সাধারণত কারো জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা হয়ে থাকে। অর্থাৎ কারো জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা,স্নেহ অথবা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে যে কবিতা লেখা হয় তাকে জন্মদিনের কবিতা বলে। জন্মদিনের কবিতায় ভালোবাসার উপস্থিতিই বেশি। আসলে কারো জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোই এক ধরণের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
Table of Contents
জন্মদিন নিয়ে কবিতা সামগ্রী
শুভ জন্মদিন – রেদোয়ান মাসুদ

শুভ জন্মদিন, শুভেচ্ছা তোমায়
সারাক্ষণ মুখখানি থাকুক হাসিময়,
একবিন্দু জলও না আসুক চোখের কোনায়
স্বপ্নআঁকা হৃদয়টি থাকুক গতিময়,
ভালো থাকুক প্রিয়জন সবসময়
এই কথা লিখে দিলাম প্রার্থনার খাতায়।
আজ জন্মদিন তোমার – শাফিন আহমেদ

জন্মদিন – রেদোয়ান মাসুদ

এসেছে জন্মদিন এক বছর পরে,
দোয়া করি হৃদয় থেকে মন ভরে,
সারা জীবন থেকো যেন হাসি মুখে।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই তোমায় এবারে
হাসি মুখে গ্রহণ কর হৃদয়ের তরে।
আমার এ জন্মদিন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার এ জন্মদিন-মাঝে আমি হারা আমি চাহি বন্ধুজন যারা তাহাদের হাতের পরশে মর্ত্যের অন্তিম প্রীতিরসে নিয়ে যাব জীবনের চরম প্রসাদ, নিয়ে যাব মানুষের শেষ আশীর্বাদ। শূন্য ঝুলি আজিকে আমার; দিয়েছি উজাড় করি যাহা-কিছু আছিল দিবার, প্রতিদানে যদি কিছু পাই কিছু স্নেহ, কিছু ক্ষমা তবে তাহা সঙ্গে নিয়ে যাই পারের খেয়ায় যাব যবে
জন্মদিন আসে বারে বারে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জন্মদিন আসে বারে বারে
মনে করাবারে–
এ জীবন নিত্যই নূতন
প্রতি প্রাতে আলোকিত
পুলকিত
দিনের মতন।
জন্মদিন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমরা রচিলে যারে নানা অলংকারে তারে তো চিনি নে আমি, চেনেন না মোর অন্তর্যামী তোমাদের স্বাক্ষরিত সেই মোর নামের প্রতিমা। বিধাতার সৃষ্টিসীমা তোমাদের দৃষ্টির বাহিরে। কালসমুদ্রের তীরে বিরলে রচেন মূর্তিখানি বিচিত্রিত রহস্যের যবনিকা টানি রূপকার আপন নিভৃতে। বাহির হইতে মিলায়ে আলোক অন্ধকার কেহ এক দেখে তারে, কেহ দেখে আর। খণ্ড খণ্ড রূপ আর ছায়া, আর কল্পনার মায়া, আর মাঝে মাঝে শূন্য, এই নিয়ে পরিচয় গাঁথে অপরিচয়ের ভূমিকাতে। সংসারখেলার কক্ষে তাঁর যে-খেলেনা রচিলেন মূর্তিকার মোরে লয়ে মাটিতে আলোতে, সাদায় কালোতে, কে না জানে সে ক্ষণভঙ্গুর কালের চাকার নিচে নিঃশেষে ভাঙিয়া হবে চুর। সে বহিয়া এনেছে যে-দান সে করে ক্ষণেকতরে অমরের ভান– সহসা মুহূর্তে দেয় ফাঁকি, মুঠি-কয় ধূলি রয় বাকি, আর থাকে কালরাত্রি সব-চিহ্ন-ধুয়ে-মুছে-ফেলা। তোমাদের জনতার খেলা রচিল যে পুতুলিরে সে কি লুব্ধ বিরাট ধূলিরে এড়ায়ে আলোতে নিত্য রবে। এ কথা কল্পনা কর যবে তখন আমার আপন গোপন রূপকার হাসেন কি আঁখিকোণে, সে কথাই ভাবি আজ মনে।
জন্মদিন নিয়ে বিস্তারিতঃ
জন্মদিন হচ্ছে পঞ্জিকা অনুযায়ী মানুষের জন্মগ্রহণের দিবস। সাধারণত জন্মবার্ষিকীতে কারো জন্মদিন উৎসবের মাধ্যমে পালন করা হয়। সাধারণত বছরের একটি নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট তারিখে শিশুর পক্ষে তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন কিংবা ব্যক্তি কর্তৃক উদযাপিত হয় এই জন্মদিন। অর্থাৎ, বৎসরের নির্দিষ্ট দিনে জন্মগ্রহণকারী শিশু বা ব্যক্তির জন্ম উপলক্ষে যে আনন্দঘন উৎসব-আয়োজনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, তাই জন্মদিন নামে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণত শিশুদেরকে কেন্দ্র করেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাছাড়াও, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীসহ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরকেও জন্মদিন পালন করতে দেখা যায়। সাড়ম্বর উদ্যাপন ছাড়াও জন্মদিন উদ্যাপনের প্রধান মাধ্যম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন।
মানবীয় গুণাবলীর অধিকারী মানুষ আবেগপ্রবণ জাতি হিসেবে চিহ্নিত। মূলতঃ মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ শিশুর এক বছর পূর্তিতে জন্মদিনের আয়োজন করা হয় মহাআড়ম্বরে। সন্তান কিংবা ব্যক্তিকে তার জন্মদিবসটির গুরুত্ব, সামাজিক প্রেক্ষাপটে চিহ্নিতকরণ ও লোকদের সাথে আরো পরিচিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কিংবা বাবা-মায়ের আদরের ধন হিসেবে শিশুটিকে সন্তুষ্ট ও খুশি করার জন্যও জন্মদিন পালন করা হয়।
কখনও কখনও বেসরকারী পর্যায়ে কোন প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তির তারিখকে কেন্দ্র করে পরবর্তী বছরগুলোতে নির্দিষ্ট তারিখে জন্মদিনের আয়োজন করা হয়। ঐ দিনে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ থাকে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎফুল্ল। কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ-স্ফূর্তির বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। যখন ব্যক্তির বয়স মাসের নির্দিষ্ট তারিখ ও বছর একই পর্যায়ে অবস্থান করে তখন তা মহা জন্মদিন বা লাকী বার্থডে, শ্যাম্পেন ডে অথবা স্টার বার্থডে নামে অভিহিত করা হয়।