টুঙ্গিপাড়ায় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পচ্ছে। কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের আন্তরিক তৎপরতায় এ উপজেলা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের চাষাবাদ সম্প্রসারণ করছেন।

এ কারণে এ উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  চলতি আউশ মৌসুমে প্রণোদনা পেয়ে কৃষকরা ব্রি হাইব্রিড ধান ৭ আবাদ করে হেক্টর প্রতি ৭.৩৫ মেট্রিক টন ফলন পেয়েছেন।

 

টুঙ্গিপাড়ায় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছেঃ  এ উপজেলায় নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষক ধান, পাট, সবজি, সরিষা, ভ’ট্টা, গমসহ সব ধরণের ফসল ফলাচ্ছেন। মানসম্পন্ন বীজের প্রাপ্যতা, সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত ও কৃষিকে যান্ত্রিকী করণ করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার  কৃষকরা জানিয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামের কৃষক কাওসার আলী শেখ ব্রি হাইব্রিড ধান ৭  চাষ সম্পর্কে বলেন, হাইব্রিড ধানের গোছাও যেমন বড়, ছড়ায় ও তেমন পুষ্ট ধানের সংখ্যা বেশি। এ ধানের হেক্টর প্রতি ৭.৩৫ টন ফলন পেয়েছি । ১১০ দিনে এত বেশি ফলন অন্য কোন ধানে পাওয়া যায় না বলে তিনি জানান। তিনি ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতার   প্রশংসা করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা উুঁচু জমিতে বছরে ৩টি ফসল ফলাই। নিচু জমিতে ২টি ফসল উৎপাদন করি। ভালো বীজ ও খাল খনন করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করলে আমরা বছরে উঁচু জমিতে ৪টি ও নিচু জমিতে ৩টি ফসল ফলাতে পারবো। এতে কৃ-ষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে আমাদের আয় আরো বাড়বে। কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ সম্ভব হবে।

 

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাসুড়িয়া গ্রামের কৃষক বীবেক বালা (৬০) বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে ও সহযোগিতায় আমরা কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করেছি। কৃষি বিভাগ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক  উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড ফসল বেশি করছি। এ কারণে আমরা বেশি ফসল আমরা ফলাতে পারছি। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগ আমাদর সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করে আসছেন।

বর্ণি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সবুজ গোলদার বলেন,এ ইউনিয়নে ধান, পাট, সবজি, সরিষা, মসুরসহ সবধরণের ফসল ফলে। কৃষকরা আমাদের কাছ থেকে আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে নতুন নতুন ফসল সারা বছর  উৎপাদন করছেন। এতে তাদের আয় ও কৃ-ষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা কৃষির সমস্যা চিহ্নিত করে তাদের পরমর্শ দেই। তারা পরামর্শ মোতাবেক চাষাবাদ করে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভ’মিকা রাখছেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দিন  বলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত উপজেলা। এখানে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধির জন্য বীজের প্রাপ্যতা, সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত ও কৃষিকে যান্ত্রিকী করণে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমরা  এবছর কৃষককে সব ধরণের সহায়তা দিয়ে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে সক্ষম হব।

 

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, টুঙ্গিপাড়ার কৃষকরা সব সময় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখে চলেছে। কোন জমিতে বেশি ফসল উৎপাদনে তারা অতি উৎপাদনশীল ফসলের চাষ করছেন।

হাইব্রিড ফসল ইনব্রিড  ফসলের চেয়ে বেশি ফলে বিধায় হাইব্রিড ফসলের চাষ তারা বেশি করছেন।  ব্রি হাইব্রিড ধান-৭ প্রতি হেক্টরে সাত  টনেরও বেশি ফলন দেয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই এ জাত চাষ করে কৃষক ভাইয়েরা অনেক বেশি ফলন পেয়েছেন।

ধান চাষে সুষম সারপ্রয়োগ,  প্রয়োজনীয় সেচ প্রদান, অন্যান্য আন্তঃপরিচর্যার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি একই জমিতে একাধিক ফসল চাষের জন্য কৃষকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আমন চাষের পর এবং বোরো চাষের আগে সরিষা আবাদের জন্য কৃষকদের আহবান জানান।

তিনি বোরো মৌসুমে ধান আবাদের জন্য হাইব্রিড ধানবীজ আগেভাগে সংগ্রহের জন্য কৃষকদের অনুরোধ করেন। তিনি হাইব্রিড ধান চাষ  বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন এ জেলায় চাষাবাদের এর জন্য প্রয়োজনীয় সারের কোনো সংকট নাই, সারের  প্রয়োজনীয় মজুত আছে।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, টুঙ্গিপাড়ায় কৃ-ষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমরা কৃষি বিভাগকে নিয়ে একাধিকবার কৃষক উদ্বুদ্ধ করন সভা করেছি। সেখানে আমরা কৃষকদের কথা গুরুত্বের সাথে শুনেছি।  কৃষকদের  সব সমস্যাগুলো  লিপিবদ্ধ করেছি। কৃষকরা মানসম্মত বীজ প্রাপ্তি ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি করেছে।

 

আমি কোন জমি ফেলে না রেখে সেখানে শাকসবজি আবাদের জন্য কৃষাণী বোনদের প্রতি অনুরোধ করেছি।  বীজ প্রাপ্তি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষে ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। কৃষিকে যান্ত্রিকী করণে কৃষককে ভর্তুিিক মূল্যের যন্ত্রপাতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা আরো বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সার প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আমাদের জেলায় সারের কোন অভাব নেই। এখানে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। তিনি জৈব সার উৎপাদনের উপর গুরুত্বরোপ করে বলেন, মানব দেহের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ববহার বৃদ্ধি করতে হবে।

মন্তব্য করা বন্ধ রয়েছে।