পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা – কামিনী রায়

পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা – কবি কামিনী রায় (Kamini Roy) – এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) পাছে লোকে কিছু বলে।

 

পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা
পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা

 

কামিনী রায়ের জন্ম পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) বাকেরগঞ্জের বাসণ্ডা গ্রামে (বর্তমানে যা ঝালকাঠি জেলার অংশ)। তার পিতা চণ্ডীচরণ সেন একজন ব্রাহ্মধর্মাবলম্বী, বিচারক ও ঐতিহাসিক লেখক ছিলেন। ১৮৭০ খ্রীস্টাব্দে চণ্ডীচরণ ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা লাভ করেন। পরের বছর তার স্ত্রী-কন্যাও কলকাতায় তার কাছে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন। তিনি ব্রাহ্ম সমাজের বিশিষ্ট নেতা ছিলেন। তার ভগিনী যামিনী সেন লেডি ডাক্তার হিসাবে খ্যাতিলাভ করেছিলেন। ১৮৯৪ খ্রীস্টাব্দে কামিনীর সাথে স্টাটুটারি সিভিলিয়ান কেদারনাথ রায়ের বিয়ে হয়।

 

পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা – কামিনী রায়

 

কামিনী রায় 2 গুরুকুল লাইভ লিউজ পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা - কামিনী রায়

 

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে –
পাছে লোকে কিছু বলে।
আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।
হৃদয়ে বুদবুদ মত
উঠে চিন্তা শুভ্র কত,
মিশে যায় হৃদয়ের তলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।
কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি
সযতনে শুকায়ে রাখি;-
নিরমল নয়নের জলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।
একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা –
চলে যাই উপেক্ষার ছলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।
মহৎ উদ্দেশ্য যবে,
এক সাথে মিলে সবে,
পারি না মিলিতে সেই দলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।
বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ;
শক্তি মরে ভীতির কবলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

 

 

পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা ব্যাখ্যাঃ

‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় বলা হয়েছে, সমাজে অনেক লোক আছে যারা মনে মনে মানুষের জন্য ভালো কোনো কাজ করতে চায়; কিন্তু প্রকাশ্যে লোকলজ্জা, অন্যের সমালোচনা ও নিন্দার ভয়ে তারা নিজেদের গুটিয়ে রাখে। এ ধরনের মানুষের মনে কোনো শুভ, কল্যাণকর চিন্তা বুদবুদের মতো জেগে উঠলেও আবারও তা সমালোচনার ভয়ে নিভে যায়। অন্যের দুঃখ-বেদনায় তাদের প্রাণ কাঁদলেও সেটাকে কেউ দুর্বলতা ভাবতে পরে মনে করে চোখের পানি প্রাণপণে আটকায়। তেমনি সামান্য একটি স্নেহের কথায় অন্যের ব্যথা কমতে পারে জেনেও উপেক্ষার ভাব দেখিয়ে তারা চলে যায়।

অন্যের সমালোচনাকে তারা এতটাই প্রাধান্য দেয় যে মহৎ কোনো উদ্দেশ্যে সমাজের অনেকে ঐক্যবদ্ধ হলেও তারা সেই দলে যোগ দিতে পারে না। তাদের সব শক্তি নিন্দুকের ভয় ও সমালোচনাতেই মরে যায়।
অন্যদিকে উদ্দীপকের নিন্দুককে কবি ভয় পান না। কারণ তিনি মনে করেন যে নিন্দুক আছে বলেই তিনি তার ভুলত্রুটি সংশোধন করে সঠিক পথে চলতে পারেন। এই নিন্দুক কবিকে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও প্রেরণা জোগায় বলে তিনি সারাজীবন নিন্দুকের উপস্থিতি কামনা করেন।

উদ্দীপকের উপর্যুক্ত বক্তব্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে উদ্দীপকের নিন্দুক তার কঠিন সমালোচনা দ্বারা কবিকে উৎসাহ প্রদান, আর ‘আর পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার নিন্দুক তার নিন্দা বা সমালোচনা দ্বারা ব্যক্তিকে নিরুৎসাহিত ও সংশয়ান্বিত করে তোলে—এটাই বৈসাদৃশ্য।

 

কামিনী রায় 3 গুরুকুল লাইভ লিউজ পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা - কামিনী রায়

 

 

পাছে লোকে কিছু বলে কবিতা আবৃত্তিঃ