বাবুই পাখি কবিতা – ছোট বেলায় বাচ্চাদের প্রথম প্রথম যে কবিতাগুলো শেখানো হয় , তাদের মধ্যে অন্যতম একটি কবিতা হলো বাবুই পাখির কবিতা।
Table of Contents
বাবুই পাখি কবিতা – আলমগীর কবীর
আমার বাড়ির উঠুন পাশে বাবুই পাখির বাসা
থাকে তারা মনে নিয়ে কতই রকম আশা।
করে তারা দিনের বেলা শুধুই কিচিরমিচির
সারাদিন বুনে বাসা রাত্রে নিবিড়।
বাবুই পাখির বাসা বুনা বড্ড চমৎকার
তার উপর গবেষণা খুবই দরকার।
বাবুই পাখি পুরুষ নারী খুবই পরিশ্রমি
দিন দুপুরে প্রখর রোদে বাসা বুনানি।
বাবুইরে তুই কেমন পাখি এতো কেনো বুদ্ধি?
তোদের শিক্ষা মোদের দরকার হতে জ্ঞানের বৃদ্ধি।
বাবুই পাখি নিয়ে আরও কবিতা
বাবুই পাখির কবিতা
বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই,/ কুঁড়ে
ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই!/ আমি
থাকি মহা সুখে অট্টালিকা পরে,/ তুমি
কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে।/ বাবুই
হাসিয়া কয়; সন্দেহ কি তায় !/ কষ্ট পাই
তবু থাকি নিজেরই বাসায়।/ পাক হোক তবু
ভাই পরের বাসা,/ নিচ জাকে গড়া মোর
কাঁচা ঘর খাসা। মানুষকে মানবিকভাবে
জাগ্রত করার জন্য কবি রজনীকান্ত সেন
এ কবিতাটি রচনা করেন। তার এ কালজয়ী
কবিতাটি এখনো মানুষের মুখে মুখে। বাবুই
পাখিকে নিয়ে কবির ‘স্বাধীনতার সুখ’
কবিতাটি আজো মানুষ উদাহরণ হিসাবে
ব্যবহার করলেও হারিয়ে যেতে বসেছে
বাবুই পাখি ও বাবুই পাখির বাসা। বাবুই
পাখির বাসা আজ অনেকটা স্মৃতির
অন্তরালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অথচ আজ
থেকে প্রায় ১৫/২০ বছর আগেও গ্রাম-
গঞ্জে তাল, নারকেল ও সুপারি গাছে
দেখা যেত বাবুই পাখির নিপুণ কারু
কাজে তৈরি দৃষ্টিনন্দন বাসা।
লোহাগড়ার বিভিন্ন গ্রামে এখন আর
আগের মত বাবুই পাখির নিপুণ তৈরি করা
দৃষ্টিনন্দন বাসা চোখে পড়ে না। এসব
বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না,
মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগাত
এবং স্বাবলম্বী হতে উত্সাহিত করত।
কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ও পরিবেশ
বিপর্যয়ের কারণে আজ এ পাখিটি আমরা
হারাতে বসেছি। গাছের ঝুড়ির মতো
চমত্কার বাসা বুনে বাস করায় এ পাখির
পরিচিতি জগত্ জোড়া। খড়, তাল গাছের
কচি পাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতা-পাতা
দিয়ে উঁচু তালগাছে চমত্কার বাসা তৈরি
করতো বাবুই পাখি। সেই বাসা যেমন
আকর্ষণীয় তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও
তাদের বাসা ভেঙ্গে পড়ে না। বাবুই
পাখির শক্ত বুননে এ বাসা টেনেও ছেঁড়া
যায় না। এ জন্য অনেকেই একে তাঁতি
পাখি বলে ডেকে থাকেন।
বাবুই পাখি সারাবিশ্বে ১১৭ প্রকার। তবে
বাংলাদেশে ৩ প্রজাতির বাবুই পাখির
বাসা দেখা যায়। বাবুই পাখির অন্যতম
বৈশিষ্ট হলো রাতের বেলায় ঘর
আলোকিত করতে জোনাকি পোকা ধরে
নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে
ছেড়ে দেয়। একটি বাসা তৈরি করার পর
পুরুষ বাবুই পাখি সঙ্গীর খোঁজে নামে।
সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুই পাখিকে
সাথী বানানোর প্রয়োজনে পুরুষ বাবুই
নিজেকে আকর্ষণীয় করতে খাল, বিল ও
ডোবায় ফূর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায়
গাছের ডালে ডালে। প্রজনন সময় ছাড়া
অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির গায়ে
কালো কালো দাগসহ পিঠ হয় তামাটে
বর্ণের। নিচের দিকে কোন দাগ থাকে
না। ঠোঁট পুরো মোসাকার ও লেজ চৌকা।
তবে প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখির রং হয় গাঢ়
বাদামি। বুকের ওপরের দিকটা হয়
ফ্যাকাসে; অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই
পাখির চাঁদি পিঠের পালকের মতই
বাদামি হয়। বুকের কালো ডোরা ততটা
স্পষ্ট নয়।
বাবুই পাখি সাধারণত তাল, খেজুর,
নারকেল ও আখ ক্ষেতে বাসা বাঁধে। ধান,
চাল, গম ও পোকা-মাকড় প্রভৃতি তাদের
প্রধান খাবার। একসময় লোহাগড়ার
বিভিন্ন গ্রামে দেখা যেত শ’ শ’ বাবুই
পাখির বাসা। বর্তমানে যেমন তালগাছসহ
বিভিন্ন গাছ নির্বিচারে নিধন করা
হচ্ছে। তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই
পাখিও। এক শ্রেণির মানুষ অর্থের লোভে
বাবুই পাখির বাসা সংগ্রহ করে ধনীদের
নিকট বিক্রয় করছে। এই বাবুই পাখির
বাসা শোভা পাচ্ছে ধনীদের ড্রইং রুমে।
বাবুই পাখির এ শৈল্পিক নিদর্শনকে
টিকিয়ে রাখার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ
গ্রহণ করা দরকার বলে জানিয়েছেন
পরিবেশবিদরা। শিকারীর কবলে পড়ে
বাবুই পাখি ও নানা প্রজাতির পাখি আজ
বিলুপ্তির পথে। লোহাগড়ার বহু এলাকা
ঘুরে লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের ঝিকড়া
গ্রামের পুকুরপাড়ের একটি তালগাছে
মিললো কাঙ্ক্ষিত বাবুই পাখির বাসা ও
বাবুই পাখি । ওই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মনির
ও বাশার জানালেন, মাঝেমধ্যে এ গ্রামে
অতিথিরা বেড়াতে এসে তাকিয়ে
থাকেন বাবুই পাখির বাসা ও বাবুই
পাখির দিকে। মোবাইল ক্যামেরা বা বড়
ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন, ভিডিও
করেন। আমরা নিজেরাও চেষ্টা করছি
এখানকার এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে ।
বাবুই পাখি কবিতা
বাবুই পাখি কবিতা
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই,
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তাই ?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”
বাবুই পাখি নিয়ে ছড়া
বাবুই পাখি
গাছে গাছে, ডালে ডালে বাবুই পাখির বাসা,
কত বড় শিল্পী তারা, বাসা বানায় খাসা।
শূন্যে ঝুলে থাকে তারা, শূন্যের ওপর বাস,
ঝড়-তুফানে নয় যে ভীত, কাটায় বারো মাস।
বাবুই পাখিঃ
বাবুইPloceidae গোত্রের অন্তর্গত একদল প্যাসারাইন পাখি। খুব সুন্দর বাসা বোনে বলে এরা “তাঁতি পাখি” (Weaver Bird) নামেও পরিচিত। এদের বাসার গঠন বেশ জটিল আর আকৃতি খুব সুন্দর। কয়েক প্রজাতির বাবুই একাধিক কক্ষবিশিষ্ট বাসা তৈরি করতে পারে।তুতির সাথে এরা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এরা মূলত বীজভোজী পাখি, সে জন্য তাদের ঠোঁটের আকৃতি বীজ ভক্ষণের উপযোগী; চোঙাকার আর গোড়ায় মোটা। অধিকাংশ বাবুই প্রজাতির আবাস সাব-সাহারান আফ্রিকায়, তবে কয়েকটি প্রজাতি এশিয়ায় স্থায়ী। অল্প কয়েকটি প্রজাতিকে বিভিন্ন দেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।
খুব সুন্দর বাসা বোনে বলে এরা “তাঁতি পাখি” (Weaver Bird) নামেও পরিচিত।এরা বেশ দলবদ্ধ প্রাণী আর কলোনি করে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত।