চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে লাগা আগুন এখনও জ্বলছে। বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে এখন পর্যন্ত ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ২১ জনের লাশ। অন্যদিকে দগ্ধ ও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে প্রায় ২০০ মানুষ। মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিয়ে যেতে স্বজনদের আকুতি জানিয়ে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন।
রোববার (৫ জুন) সন্ধ্যায় ৪৯ জন মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী। আহত অনেকের অবস্থা গুরুতর, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, লাশের সারি আরও দীর্ঘ হতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
বিস্ফোরণে নিহত ফারুকের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিয়ে যাওয়ার আকুতিতে তার বাবা সাত্তার বলেন, আমারতো সব শেষ। আমার ছেলেটা কাজ করতে গিয়ে মরে গেল। এখন তার লাশটা নিয়ে যেতে চাচ্ছ।।পোস্টমার্টম (ময়নাতদন্ত) ছাড়া লাশ নেওয়া যাচ্ছে না। ওকে কি আর পোস্টমার্টম করবে! শরীরে তো কিছুই নাই!
শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাগা আগুন এখনো জ্বলছে। আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একযোগে কাজ করে চলেছেন।
সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রধান আরিফুল ইসলাম হিমেল বলেন, সকাল থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এখনও পুরোপুরি নেভেনি। কিছু কনটেইনারে এখনও আগুন জ্বলছে। সেনাবাহিনীর প্রায় ২০০ জনবল এখানে কাজ করছে।
ভয়াবহ এ দূর্ঘটনায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া নিহত ২১ জন হলেন- বাঁশখালী উপজেলার ফরিদুল আলমের ছেলে মুমিনুল হক (২৪), মাহমুদুর রহমানের ছেলে মহিউদ্দিন (৩৪), দক্ষিণ বালিয়াপাড়ার সিহাব উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (২৩), চালিয়াপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে রবিউল আলম (১৯), হাসান আলীর ছেলে তোফায়েল আহমেদ (২৩),
আব্দুল রশিদের ছেলে আলাউদ্দিন (৩৫), নিজাম উদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন (৩৫), নিজাম উদ্দিনের ছেলে সুমন (২৪), আবুল কাশেমের ছেলে ইব্রাহিম (২৭), মো. আসিফের ছেলে নয়ন (২২), দক্ষিণ হালিশহর এলাকার আব্দুল ছবুরের ছেলে হারুনুর রশিদ (৩৫), সামসুল হকের ছেলে মনিরুজ্জামান (৩২),
সাত্তারের ছেলে ফারুক জমাদার (৫৫), আমিন উল্লাহ’র ছেলে শাহাদাত উল্লাহ (৩০), শাহ আলমের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২৯), সোহরাব মিয়ার ছেলে তৌহিদুল হাসান (৪১), জাফর আহমদের ছেলে রিদুয়ান (২৪),
আব্দুল সত্তার তরফদারের ছেলে শাকিল তরফদার (২২) চিত্তরঞ্জন চাকমার ছেলে নিপন চাকমা (৪৫), কামরুল মিয়ার ছেলে রানা মিয়া (২২), সোলাইমান মিয়ার ছেলে আফজাল (২০) ও আবু ইউসুফের ছেলে সালাউদ্দিন কাদের (৫০)।
বি-স্ফোরণের ঘটনায় নিহত ফায়ার সার্ভিসের ৯ সদস্যের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম।
শনাক্তকৃতরা হলেন- কুমিরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মো. রানা মিয়া, নার্সিং এটেনডেন্ট মনিরুজ্জামান, ফায়ার ফাইটার আলাউদ্দিন, ফায়ার ফাইটার শাকিল তরফদার, লিডার মিঠু দেওয়ান, সীতাকুন্ড ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ফায়ার ফাইটার রমজানুল ইসলাম, লিডার নিপন চাকমা।
এদিকে পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মর-দেহ গুলোর ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চকবাজার জোনের সহকারী (এসি) কমিশনার শহীদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, পাঁচলাইশ থানা পুলিশ মর-দেহের সুরতহাল তৈরি করে ময়না-তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) মর্গে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে মর-দেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ সংগ্রহ করা হবে।
যাদের স্বজন নিখোঁজ রয়েছেন তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।