২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা কবিতা – ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা, যে হামলায় ২৪ জন নিহত হয় এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সহ প্রায় ৩০০ লোক আহত হয়। আর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২টি কবিতা উল্লেখ করা হল।
Table of Contents
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা কবিতা
একুশে আগস্ট – স্বপন শর্মা
একুশে আগস্ট ছিল,
ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন
ছিন্নভিন্ন দেহ রক্ত গঁঙ্গা রাজপথ
গ্রেনেড বিস্ফোরণ লাশ আর লাশ
ছুটছে সবাই এক ভয়াল রুদ্ধশ্বাস,
ছুটছে সবাই শুধু করছে আর্তনাদ
বীভৎস হত্যাযজ্ঞ একুশে আগস্ট।
.
ভাগ্যবানরা বেঁচে গেলেন ভাগ্যক্রমে।
গ্রেনেড-বোমার জ্বলন্ত বিষে
চোখের পলকে কত শত প্রাণ হলো নিঃশেষ।
কেউ হারালো স্বজন কেউ বা দেহের অঙ্গ
যারা বেঁচে আছে, স্মৃতি কাতর হয়ে
প্লিন্টার যন্ত্রণা বয়ে বেড়ায় নিরবে।
.
একুশে আগস্ট ছিল,
বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ মৃত্যুপুরী শ্মশান।
একুশে আগস্ট ছিল,
রণভূমি ময়দান।
অগ্নিক্রোধ জী’য়ে রাখে ভুক্তভোগী যারা।
গ্রেনেড হামলা ধ্বংস শেষে দগ্ধ
জন্মভূমি
একুশে আগস্ট জাগ্রত বিবেক
জেগে ওঠো তুমি।
রক্তাক্ত ২১শে আগস্ট – তপন চন্দ্র রায়
বিচার চাই সান্তনা নয় আর কতশত সইতে হবে বুলেট বোমার আঘাত আর কত ভুগতে হবে বিচারহীনতায় জাগো বাঙালি জাগো শক্ত হাতে অস্ত্র ধরো বিনাশ করো সব শত্রু দন্ডিত করো ওই কুলাঙ্গার পাপিষ্ট আত্মাদের যারা বার বার নিভিয়ে দিতে চায় বাঙালি আশা, মুছে দিতে চায় স্বপ্ন ভুলি নাই আজো ভুলি নাই সেই বিভীষিকাময় রক্তাক্ত ২১ শে আগস্ট ভুলি নাই সেদিনের ১৩ টি গ্রেনেডের বিস্ফোরিত বীভৎসতায় রক্ত মাংসের স্তুপ আর স্পিন্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত শতশত মানুষের আমৃত যন্ত্রণা ভুলি নাই আকস্মিক মৃত্যু আর রক্তস্রোতে প্লাবিত বঙ্গবন্ধু এভিনিউ চারদিকে শত শত মানুষের আর্তচিৎকার ভুলি নাই আজও প্রাণ বাচাঁনোর জন্য মুমূর্ষদের করুণ আকুতি রক্তে ভেজা পিচ ঢাকা সেই কালো রাজপথ ২৪ টি তাজা প্রাণের আত্মত্যাগ আজও ভুলি নাই ভুলি নাই আজও সেদিনের জাতির জনকের কন্যার উপর বর্বোরচিত হামলার ছক। এভাবে আর কত বইতে হবে হৃদয়ের শোক আর যন্ত্রণা আমৃত করতে হবে বিচারহীনতার আত্মচিৎকার আর কত আঘাত এলে জাগ্রত হবে বাঙালি বলিষ্ঠ কন্ঠে তুলবে তীব্র প্রতিবাদ। পদে পদে আর কত মার খাবে বাঙালি দেখতে হবে হিংস্র হায়েনাদের বিজয়োল্লাস । জাগো বাঙালি জাগো কন্ঠে ধারণ করো তেজ ৫২, ৬৯, ৭০ আর ৭১ এর হুংকারে ধুলিস্মাৎ করো সব শত্রু ধারণ করো বাঙালি জাতির সর্ব সুখের জয়। তেজালো কন্ঠে এবার বিচার চাই, সাধারণ ক্ষমা নয়। জয় হোক জয়, বাঙালি জাতির জয়।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এর বিস্তারিতঃ
২০০৪ সালের সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল পাঁচটায় পৌঁছালে, একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা।
মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন।এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া, চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায়, তিনজন ছাড়াই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।