শেখ রাসেল কবিতা – মোঃ নাজমুল হাসান

শেখ রাসেল কবিতা – কবিতাটি শেখ রাসেলকে নিয়ে লেখা কবিতা। যা লিখেছেন মোঃ নাজমুল হাসান।

 

শেখ রাসেল 3 গুরুকুল লাইভ লিউজ শেখ রাসেল কবিতা - মোঃ নাজমুল হাসান

 

শেখ রাসেল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা অঞ্চলের ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে ১৮ অক্টোবর, ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রাসেল সর্বকনিষ্ঠ। ভাই-বোনের মধ্যে অন্যরা হলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক শেখ কামাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা শেখ জামাল এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ শেখ রেহানা। শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

 

শেখ রাসেল কবিতা – মোঃ নাজমুল হাসান

শেখ রাসেল কবিতা - মোঃ নাজমুল হাসান
শেখ রাসেল কবিতা – মোঃ নাজমুল হাসান

 

রাসেল তুমি এতই চতুর বলা বাহুল্য,
              অসাধারণ তুমি
হয় না কারোর সাথে তুল্য।
            তোমারি গুণে মুগ্ধ সবাই অনন্ত এই বিশ্বাচরে,
তোমারি কথা কেউ কেমনি করে ভুলিতে পারে।
            কত স্বপ্ন ছিলো তোমার, হবে আর্মি অফিসার,
নেতৃত্বসুলভ ছিলে তুমি, ছিলো প্রতীক মানবতার।
           প্রিন্স স্যুট পড়ে চেয়েছিলে বাবা শেখ মুজিব হতে,
বন্ধুদের পুরুষ্কার দিয়ে প্যারেডের মাধ্যমে
            অসাধারণ নেতৃত্ব দিতে।
কারাগারে বাবাকে দেখতে গিয়ে
            “বাবা চলো” বলে দেখিয়েছ এক অদম্য সাহসিকতা,
পালিত কবুতরের মাংস না খেয়ে দেখিয়েছ প্রাণী মমতা।
             অসম্ভব মেধাবী ছিলে তুমি, শিক্ষিকার মুখে বলা,
তাই তো হাসু আপার হাত ধরে,
            একদিনেই শিখেছিলে হাটাচলা।
ভ্রমণ করেছিলে তুমি জাপান ও রাশিয়া,
সবার আদর স্নেহে বেড়ে ওঠেছিলে হাসিয়া হাসিয়া।
১৫ আগষ্ট ১৯৭৫
             সেই হাসি কেড়ে নেমে এলো এক করুন অন্ধকার,
সপরিবারে প্রাণ নিয়ে ঘাতক দল
             সব কিছু করে দিলো ছারখার।
চিৎকার করেছিলে তুমি
             মায়ের কাছে যাব, নিয়ে যাও,
মায়ের মরদেহ দেখে তুমি অবশেষে বললে
             আমাকে হাসুর কাছে পাঠিয়ে দাও।
এমনই নৃশংস ঘটনা ঘটে না যেন আর,
সরকারের কাছে এই মিনতি বারেবার।
শেখ রাসেল 2 গুরুকুল লাইভ লিউজ শেখ রাসেল কবিতা - মোঃ নাজমুল হাসান

শেখ রাসেল হত্যাকাণ্ড এর বিস্তারিতঃ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যূষে একদল তরুণ সেনা কর্মকর্তা ট্যাঙ্ক দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমণ্ডিস্থ ৩২ নম্বর বাসভবন ঘিরে ফেলে শেখ মুজিব, তার পরিবার এবং তার ব্যক্তিগত কর্মচারীদের সাথে শেখ রাসেলকেও হত্যা করা হয়। শেখ মুজিবের নির্দেশে রাসেলকে নিয়ে পালানোর সময় ব্যক্তিগত কর্মচারীসহ রাসেলকে অভ্যুত্থানকারীরা আটক করে। আতঙ্কিত হয়ে শিশু রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, “আমি মায়ের কাছে যাব”। পরবর্তীতে মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিলেন “আমাকে হাসু আপার (শেখ হাসিনা) কাছে পাঠিয়ে দাও”।ব্যক্তিগত কর্মচারী এএফএম মহিতুল ইসলামের ভাষ্যমতে,

“রাসেল দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরে। আমাকে বললো, ভাইয়া আমাকে মারবে না তো? ওর সে কণ্ঠ শুনে আমার চোখ ফেটে পানি এসেছিল। এক ঘাতক এসে আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে ভীষণ মারলো। আমাকে মারতে দেখে রাসেল আমাকে ছেড়ে দিল। ও (শেখ রাসেল) কান্নাকাটি করছিল যে ‘আমি মায়ের কাছে যাব, আমি মায়ের কাছে যাব’। এক ঘাতক এসে ওকে বললো, ‘চল তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি’। বিশ্বাস করতে পারিনি যে ঘাতকরা এতো নির্মমভাবে ছোট্ট সে শিশুটাকেও হত্যা করবে। রাসেলকে ভিতরে নিয়ে গেল এবং তারপর ব্রাশ ফায়ার।”