৭ মার্চ কবিতা – ৭ মার্চ নিয়ে একগুচ্ছ কবিতা

৭ মার্চ কবিতা – ৭ মার্চ নিয়ে অনেক কবি অনেক কবিতা লিখেছেন। এর মধে কয়েকটি কবিতা তুলে ধরা হল। ৭ মার্চ নিয়ে একগুচ্ছ কবিতা নিম্নে তুলে ধরা হল।

 

সাতই মার্চের ভাষণ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ভাষণ। তিনি উক্ত ভাষণ বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু করে বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে শেষ করেন। উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়। এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই বিতরণ করা হয়েছিল।

এটি তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক কিছু পরিমার্জিত হয়েছিল। পরিমার্জনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবীটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। ১৩টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়। ১৩ তম হিসাবে মাহাতো নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর কুড়মালি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়, যা নৃ তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষায় ১ম অনুবাদ। নিউজউইক ম্যাগাজিন শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে উল্লেখ করে। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

 

 ৭ মার্চ নিয়ে কবিতা

 

৭ই মার্চ কবিতা – শরিফুল ইসলাম

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ
রেসকোর্স ময়দানে
জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল
বিদ্রোহী শ্রোতার জন্য,
একটি কবিতা শুনে
অপেক্ষার উত্তেজনা হবে ধন্য।
দিগন্ত প্লাবিত একখন্ড
আকাশের নিচে,
মিশেছিল প্রানের প্রিয়
ধু ধু মাঠের সবুজে।
কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে
ছুটে এসেছিল এই মাঠে,
মৃত্যু হাতের মুঠোয়, চোখে স্বপ্ন
জয় বাংলার শ্লোগান ঠোটে।
শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন এসে
দৃপ্ত পায়ে হেঁটে।
ঝলকে পলকে হৃদয়ে লাগিল দোলা,
তরীতে উঠিল পাল,
জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
চোখেতে লোনা জল।
সোনালী সূর্যের সকল দুয়ার খুলি
কে রোধে সে বজ্রকন্ঠ বাণী,
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে
শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,
‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।

 

৭ মার্চের ভাষণ – মোহাম্মদ মাসুকুজ্জামান

রুদ্র প্রকটে বজ্র অনলে
উত্থিত তর্জনী লক্ষ্যে লাখো জনতা
দিলে ডাক মুক্তির সোপানে।
বক্ষে তোমার দেশমাতৃকা,
ছিল অনুরাগে।
পিতা তুমি আজও অমলিন
অবিনশ্বর।
ছিলে সেদিনও অধীশ্বর,
মুক্তিকামী চেতনার।

শব্দের বারুদে ক্রমাগত চয়নে-
দিয়েছিলে জ্বেলে তপ্ত চিঙ্গারে।
সপ্রতিভ সেই মুষ্টিবদ্ধ হাত
সাথে আঙুল একটি ছিল জাগরণ।
‘থাক সঙ্গবদ্ধ, হও এক; বলীয়ান’,
এ যেন তোমার অব্যক্ত কথন
তিমির বেদিতে।

কী মহান বাগ্মীতায়
কাগজে লেখা বিনে,
মননের কাগজে লিখিত বাণী-
বুনে ছিলে নেতা অবলীলায়।
শোষিত মানুষের হৃদয় ছুঁতে
৭ মার্চ একাত্তরে।

স্বাধীনতার অঙ্কুরিত সেই স্বপ্ন-
বেড়েছিল তোমার পুষ্টিতে,
মাত্র নয় মাসে, ১৬ ডিসেম্বরে।
তপ্ত গ্রীষ্ম পেরিয়ে শীতের আগমনে
স্বাধীন দেশের স্বাধীন বসন্ত-
পেয়েছিল আপামর, মানচিত্র মাঝে
অনেক ত্যাগ রক্তের দামে।

 

চেতনাদীপ্ত সে ভাষণ – মো. হাসান ঈমাম

আমি পৌঁছে দেব পৃথিবীর প্রতি প্রান্তরে
রক্তভেজা প্রতিটি জনপদে
আন্দোলনে মনোবল সঞ্চারণে
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সে ভাষণ,
সহসা ভয়-সংকোচ ঝেরে ফেলে
হতাশার মাঝে শোষিত খুঁজে পাবে
শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর যত প্রেষণ।

আমি মোহাচ্ছন্ন হয়ে অস্পৃশ্য শিহরণে
কান পেতে শুনবো সে ভাষণ।

আমি ছড়িয়ে দেব সে ভাষণ,
যে ভাষণ শোষকের দুর্গে তোলে কম্পন।
যে ভাষণে নিস্পৃহ হৃদয়ও করে শক্তি অন্বেষণ,
মুক্ত বাতাসে জাতির স্বপ্ন সাজাতে
ঘর থেকে মাতৃস্নেহের শৃঙ্খল ছিড়ে
নির্ভয়ে পথে-প্রান্তরে তোলে আলোড়ন,
আমি ছড়িয়ে দেব সারা বিশ্বে
দলিতদের মাঝে সে ভাষণ।

যে ভাষণে সুললিত কণ্ঠে মানুষের
অধিকার আদায়ে ঝরে বিনীত নিবেদন,
যে ভাষণ কভু বীরোচিত বাণীতে
দুর্বার দুর্দমনীয় স্বরে করে অধিকার অর্জন।

সবাই কান পেতে শোন বজ্রকণ্ঠের সে ভাষণ,
নিষ্প্রভ কর্ণও আজ ফিরে পাবে শিহরণ।

আমি কান পেতে শুনি সে ভাষণ-
যে ভাষণ শুনে এক মৃত্যুপুরে
শীর্ণকায় বাহুতে হয় পেশীশক্তির আগমন,
দেশের জন্য বীরদর্পে
যারা মৃত্যুকে করে আলিঙ্গন।

যে ভাষণ শুনে শূন্য হাতে
তপ্ত বুলেটের সম্মুখে
হাসিমুখে লাখো বক্ষ চিড়ে
বিশ্বের বুকে এক আলোকরশ্মির প্রজ্বলন,
বিপ্লবী জনতার হাতে বাংলাদেশের জাগরণ।

আমি দিন-রাত আত্মচেতনে উদ্বীপ্ত মননে
সদা কান পেতে থাকি শুনতে সে ভাষণ।

নির্মলেন্দু গুণের লেখা কবিতা

‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’

একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে

লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে

ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে-

‘কখন আসবে কবি?’ ‘কখন আসবে কবি?’

এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,

এই বৃক্ষে- ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না,

এই তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না।

তাহলে কেমন ছিল সেদিনের সেই বিকেল বেলাটি?

তাহলে কেমন ছিল শিশু পার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে,

ফুলের বাগানে ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হৃদয় মাঠখানি?

জানি, সেদিনের সব স্মৃতি মুছে দিতে

হয়েছে উদ্যত কালো হাত।

তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ

কবির বিরুদ্ধে কবি,

মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,

বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,

উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,

মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ…।

হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি,

শিশু পার্কের রঙিন দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি

একদিন সব জানতে পারবে,- আমি তোমাদের কথা ভেবে

লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প।

সেদিন এই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর;

না পার্ক না ফুলের বাগান,- এসবের কিছুই ছিল না,

শুধু একখণ্ড অখণ্ড আকাশ যে রকম, সে রকম দিগন্ত প্লাবিত

ধু-ধু মাঠ ছিল দূর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়।

আমাদের স্বাধীনতাপ্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশে ছিল

এই ধু-ধু মাঠের সবুজে।

কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে এই মাঠে ছুটে এসেছিল

কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক, লাঙল জোয়াল কাঁধে

এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে

এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক, হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে

 

৭ই মার্চ 1 গুরুকুল লাইভ লিউজ ৭ মার্চ কবিতা - ৭ মার্চ নিয়ে একগুচ্ছ কবিতা